Skip to main content

Command Palette

Search for a command to run...

AI কি সত্যিই আমাদের চাকুরি খেয়ে নিবে?

Updated
5 min read
AI কি সত্যিই আমাদের চাকুরি খেয়ে নিবে?
B

I am a web-developer. I like working with JavaScript. Therefore I use React JS to make stunning UI. I am ready to work with honesty, dedication, sincerity, and confidence to adapt to any situation to achieve my purpose.

“AI কি সত্যিই আমাদের চাকুরি খেয়ে নিবে?” – এই প্রশ্নটি আজকের পৃথিবীতে অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত বিষয় যেখানে উন্নত বিশ্ব থেকে শুরু করে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশেও এই প্রশ্নে নানান মতামত ও বিতর্ক আছে। কেউ এটাকে ভবিষ্যতের ভয়াবহ সংকেত হিসেবে দেখছে আবার কেউ এটাকে নতুন সম্ভাবনার দরজা হিসেবে বিবেচনা করছে।

কিন্তু সত্যটা কোথায়? AI কি সত্যিই মানুষের কাজ কেড়ে নেবে, মানুষ কাজের অভাবে বেকার হয়ে যাবে?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে আমাদের আবেগ নয় বরং বাস্তবতা, ইতিহাস এবং প্রযুক্তিগত বিবর্তনের দিকে তাকিয়ে একটি সিদ্ধান্তে আসা যেতে পারে…

প্রযুক্তির ইতিহাস

মানুষের ইতিহাসে নতুন প্রযুক্তি আসার সাথে সাথে সবসময় একটা ভয় কাজ করে যেমন যখন ক্যালকুলেটর আবিষ্কার হয়েছিল তখনও অনেকে মনে করেছিল মানুষ আর গণনা করতে পারবে না কিংবা মানুষ গণিত ভুলে যাবে।
কিন্তু বাস্তবে কী হয়েছে? মানুষ এখনো গণনা করতে পারে বরং ক্যালকুলেটর সেই হিসাব’কে আরও দ্রুত ও নির্ভুল করেছে। একইভাবে একসময় যোগাযোগের জন্য কবুতর ব্যবহার করা হতো। পরে ডাক পিয়ন, তারপর টেলিফোন, ইমেইল এবং এখন ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং। পুরনো পদ্ধতি হারিয়ে গেছে বটে কিন্তু নতুন নতুন চাকরি তৈরি হয়েছে – আইটি সেক্টর, টেলিকমিউনিকেশন, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট এই সব কিছুই কিন্তু প্রযুক্তির ফল।
অর্থাৎ, প্রযুক্তি কখনোই শুধুমাত্র চাকরি ধ্বংস করে না বরং এটি চাকরির ধরন পরিবর্তন করে মাত্র।

AI এবং অটোমেশন বাস্তবতা

AI (Artificial Intelligence) এবং অটোমেশন আজকের যুগে উৎপাদন ব্যবস্থাকে দ্রুত ও দক্ষ করে তুলছে। কারখানা, ব্যাংকিং, কাস্টমার সার্ভিস, এমনকি লেখালেখি ও ডিজাইনেও AI প্রবেশ করেছে।
তথাপি AI এবং অটোমোশনে কিছু জব সেক্টর চাকরিগুলো ঝুঁকিতে আছে বৈকি; AI মূলত সেইসব কাজগুলোতে মানুষের জায়গা নিচ্ছে যেগুলো পুনরাবৃত্তিমূলক (Repetitive), নিয়মভিত্তিক (Rule-based) এবং কম সৃজনশীলতা প্রয়োজন। উদাহরণস্বরূপ ডাটা এন্ট্রি, কল সেন্টার সাপোর্ট, ফ্যাক্টরি শ্রমিক (ঠিক কায়িক শ্রম বিষয়টা যেখানে লেবাব এর পরিবর্তে লিভার টেকনোলজিতে আমরা উত্তরণ হয়েছি), বেসিক অ্যাকাউন্টিং ইত্যাদি। এই সেক্টরগুলোতে AI মানুষের চেয়ে দ্রুত, কম খরচে এবং কম ভুলে কাজ করতে পারে তাই এখানে হিউম্যান ইন্ট্যারএক্টিভ কনট্রিবিউশন কমে আসা স্বাভাবিক।

নতুন চাকরির সৃষ্টি এবং সুযোগের নতুন দিগন্ত

AI যতই পুরনো চাকরি কমাক না কেন এটি নতুন চাকরির বিশাল ক্ষেত্র তৈরি করছে যেমন উদাহরণস্বরূপ AI Engineer, Data Scientist, Machine Learning Specialist, AI Ethics Consultant, Prompt Engineer ইত্যাদি। এছাড়াও AI পরিচালনা, উন্নয়ন এবং নিয়ন্ত্রণের জন্য দক্ষ মানুষের প্রয়োজন বৈকি অর্থাৎ কাজ বা জব শেষ হচ্ছে না কিংবা ধ্বংষ হয়ে যাচ্ছে না বরং কাজের ধরণ বদলাচ্ছে মাত্র।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স

বাংলাদেশে AI এরআলোচনা একটু ভিন্ন মাত্রা পায় কেননা আমরা যুক্তিগত ভাবনার পরিবর্তে ইমোশনাল থিংকিং আর অযাচিত তর্কপটু; তথাপি এখানে অনেক মানুষ এখনো কায়িক শ্রমনির্ভর কাজে যুক্ত ফলে AI-এর আগমন আমাদের জন্য হুমকি মনে হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু বাস্তবতা হলো বাংলাদেশে এখনো AI সম্পূর্ণভাবে সব সেক্টরে ইনপুট হয়নি কারণ ডিজিটাল স্কিলের অভাব রয়েছে এবং প্রযুক্তি গ্রহণের গতি আমাদের দেশে তুলনামূলক ধীর।
এই পরিস্থিতিতে AI হঠাৎ করে সব চাকরি কেড়ে নেবে এটা একদমই বাস্তবসম্মত নয়; বরং ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসবে এবং যারা আগে থেকেই প্রস্তুতি নেবে তারাই এগিয়ে থাকবে।

মন মানসিকতার পরিবর্তন’ই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ

AI এর যুগে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ প্রযুক্তি নয় বরং মানুষের মানসিকতা। অনেকেই এখনো মনে করে “আমি এই কাজটাই করি, সারাজীবন এটাতেই থাকবো” এই চিন্তাভাবনা ভবিষ্যতে বিপজ্জনক হতে পারে কারণ পৃথিবী দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং উন্নত মানসিকতায় তাতে এডপ্ট হতে হয়। তথাপি প্রয়োজন শেখার মানসিকতা (Learning mindset), নতুন স্কিল অর্জন, প্রযুক্তির সাথে অভিযোজন।

Human Vs Ai – কে শক্তিশালী?

“AI অনেক কিছু করতে পারে এটা সত্য কিন্তু সবকিছু না” যেমন AI দ্রুত ডাটা বিশ্লেষণ,প্যাটার্ন চিনতে পারা, অটোমেটেড কাজ ইত্যাদিতে মানুষের চেয়েও বেশী পারদর্শীতা রাখে; তথাপি AI পারে না, গভীর আবেগ বুঝা, সৃজনশীল চিন্তার গভীরতা, নৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, মানবিক সংযোগ বা হিউম্যান ইন্টারএক্টিভ নেটওয়ার্কিং ইত্যাদি। আর এই জায়গাগুলোতেই মানুষের আসল শক্তি যেখানে AI কখনোই মানুষকে ওভারটেইক করতে সক্ষম নয় [এটলিস্ট আপাতভাবে এতোটুকু নিশ্চিত হওয়া চলে]।

কায়িক শ্রম এবং মেধা

বস্তুত “মানুষ পৃথিবীতে কায়িক শ্রমের জন্য আসেনি বরং রাজ করতে এসেছে” যেখানে মানুষ নিজের মেধা, চিন্তা ও সৃজনশীলতা দিয়ে সভ্যতায় উৎকর্ষে এগিয়ে যাবে। আজকের পৃথিবীতে পাথর ভাঙার কাজ মেশিন করছে, হিসাব করার কাজ সফটওয়্যার করছে, এমনকি লেখা লিখতেও AI সাহায্য করছে তাই AI মানুষের প্রতিযোগী বরং সহযোগী মাত্র। এখানে মানুষের Role হলো সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নতুন আইডিয়া তৈরি, নেতৃত্ব দেওয়া, উদ্ভাবন ইত্যাদি।
অন্যদিকে যারা এই সহযোগী AI কে প্রতিযোগি ভেবে থিংকিং চেইঞ্জ করবে না কিংবা স্কিল ডেভেলপমেন্ট করবে না তারাই আসলে পিছিয়ে পড়বে। AI যুগে তারাই সফল হতে পারবে না যারা নতুন কিছু শিখতে চায় না, যারা প্রযুক্তিকে ভয় পায়, যারা পরিবর্তন মানতে চায় না এমন অযাচিত মানসিকতা; আর এই মানসিকতা ঐসব মানুষদের আত্মঘাতী হয়ে উঠবে।
অপরাপর তারাই এগিয়ে যাবে যারা নতুন স্কিল শিখবে, AI কে ব্যবহার করতে শিখবে এবং নিজেদের দক্ষতা আপগ্রেড করবে সর্বোপরি AI কে প্রতিদ্বন্দ্বী না ভেবে “সহকারী” হিসেবে ব্যবহার করবে।
ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্র এর স্বরূপ হবে Hybrid (মানুষ + AI), Skill-based (ডিগ্রি নয়, দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ) এবংRemote-friendly (ঘরে বসে কাজ) যেঝানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো “Continuous Learning” অর্থাৎ সবসময় শিখে যাওয়া।

কনক্লুশন

সবিশেষ AI আমাদের চাকরি “খেয়ে ফেলবে” এটা এই যেমন পুরোপুরি সত্য নয়, আবার পুরোপুরি মিথ্যাও নয় বরং সত্যটা হলো AI নন ইমপ্যাক্টিভ জব সেকশন পরিবর্তন করে নতুন নতুন ইফেক্টিভ জব সেকশন উন্মুক্ত করে দিবে; এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের মানসিকতা পরিবর্তন এবং স্কিল ডেভেলপমেন্ট।
মানুষের শক্তি তার মস্তিষ্কে এবং তার চিন্তায় গায়ের জোর দিয়ে পাহাড় ঠেলার যুগ শেষবএখন বুদ্ধি দিয়ে পৃথিবী বদলানোর সময়; এই সত্য বাস্তবতা উপলব্ধি করাতেই চূড়ান্ত সফলতা ও সুফলতা নিহিত।

More from this blog

এক্সেলে গাণিতিক সংখ্যায় বাংলাদেশী স্টাইলে কমা ব্যবহারের পদ্ধতি

এক্সেলে গাণিতিক সংখ্যায় বাংলাদেশী স্টাইলে কমা ব্যবহারের পদ্ধতি পদ্ধতি-১ঃ বাংলাদেশে আমরা অংকে লেখার সময় আমরা কমা ব্যবহার করি। যেমন শতকের পর, হাজারের পর, লক্ষের পর, কোটির পর। যেমন, 12,34,56,789.98। কিন্

May 25, 20262 min read
এক্সেলে গাণিতিক সংখ্যায় বাংলাদেশী স্টাইলে কমা ব্যবহারের পদ্ধতি

জাভাস্ক্রিপ্ট এর কিছু ব্যাসিক ধারনা।

জাভাস্ক্রিপ্ট কি জাভাস্কি্রিপ্ট একটি পাওয়ারফুল স্কি্রিপ্টিং ল্যাংগুয়েজ ।যা ওয়েব ডেভলপমেন্ট এবং ওয়েব আ্যাপ্লিকেশন তৈরির কাজে ব্যাবহৃত হয় ।জাভাস্ক্রিপ্ট কে সংক্ষিপ্তভাবে JS বলা হয় ।অনলাইনে প্রায় 95% ওযেবসাইটে জাভাস্ক্রিপ্টের ব্যাবহার রয়েছে ।এর প্রোগ্...

Sep 13, 20234 min read6
জাভাস্ক্রিপ্ট  এর কিছু ব্যাসিক ধারনা।

গুগলে দ্রুত সঠিক তথ্য খুঁজে পাওয়ার কৌশল

বর্তমান বিশ্বে তথ্য খুঁজে পেতে গুগলের বিকল্প পাওয়া কঠিন। ইয়াহু কিংবা মাইক্রোসফটের বিং নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও গুগলই এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন। প্রতিনিয়ত আমরা গুগলে অনেক কিছুই সার্চ করে থাকি, কিন্তু সবসময়ই কি কাঙ্খিত উত্তরটি খুঁজে পাই? ...

Aug 21, 20237 min read9
গুগলে দ্রুত সঠিক তথ্য খুঁজে পাওয়ার কৌশল

ফেসবুক থেকে টাকা আয় করার সেরা ৬ টি উপায়

ফেসবুক থেকে আয়: ফেসবুক একটি সামাজিক যোগাযোগের সাইট। আমরা প্রতিদিন ফেসবুক ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক থেকে আপনি টাকা আয় করতে পারেন। কিভাবে ফেসবুক থেকে আয় করা যায় এ বিষয়ে আজকে আমি কথা বলব। অনেকেই এখন ফেসবুক থেকে অনলা...

Jul 20, 20237 min read13
ফেসবুক থেকে টাকা আয় করার সেরা ৬ টি উপায়
W

WapBorhan - Know for sharing | Bangladeshi first mobile based tech forum and community.

13 posts

JR Full Stack Developer